ওপেন নিউজ
  • | |
  • cnbangladesh.com
    opennews.com.bd
    opennews.com.bd
    opennews.com.bd
    opennews.com.bd
opennews.com.bd

মতামত

দিল্লি বৈঠকই আঞ্চলিক শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারবে


Date : 04-08-17
Time : 1491681341

opennews.com.bd

ওপেননিউজ # আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী লন্ডনের একটি দৈনিকের ছোট্ট একটি খবর, রাশিয়া, চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি জোট গঠনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এর উদ্দেশ্য হবে, আফগান-যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ফলে যে আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সংঘাত বাড়ছে, তার নিরসন। এই জোটে ইরানকেও নাকি টানার চেষ্টা হবে। খবরটি সঠিক হতে পারে, কিন্তু বর্তমান বিশ্ব-পরিস্থিতিতে এই ধরনের জোট গঠন কতটা সহজ ও সম্ভব হবে তা বিতর্কের বিষয়।
ভারতের সঙ্গে আমেরিকার উত্তরোত্তর মৈত্রী বৃদ্ধি (এমনকি ট্রাম্পের আমেরিকার সঙ্গেও) পাকিস্তানের শিরঃপীড়ার কারণ তাতে সন্দেহ নেই। আমেরিকা ও ভারতের সঙ্গে চীনের স্বার্থ সংঘাত থাকলেও চীন কি জোট বেঁধে তাদের বিরুদ্ধে সংঘাতে নামবে? সম্ভাবনা কম। অতীতেও মার্কিন জোট ও সাবেক সোভিয়েত জোটের মধ্যে ঠান্ডা গরম যুদ্ধের সময়েও চীন সরাসরি কোনো জোটে যোগ দেয় নি। এমনকি নেহেরু-নাসের-টিটোর নেতৃত্বে গঠিত জোট নিরপেক্ষ দেশগুলোর জোটেও যোগ দেয়নি।
ইরান তার পরমাণু সংক্রান্ত কর্মসূচি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে চলার নীতি গ্রহণ করেছে। সিরিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো হঠকারিতাপূর্ণ নীতি গ্রহণ না করলে ইরান তার বর্তমান অবস্থান থেকে সরে আসবে কি? আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে থেকেই পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যে সমঝোতার যে খবর নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে এখনো এতো হই চই, তার প্রেক্ষিতে মস্কো এখনই আমেরিকার বিরুদ্ধে কোনো প্রকাশ্য জোট গঠনে আগ্রহী হবে কিনা সেট দিল্লি বৈঠকই আঞ্চলিক শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারবে
 লন্ডনের কাগজে প্রকাশিত খবরটির সূত্র মনে হয় পাকিস্তানের এক অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, তিনি চাকরি থেকে অবসর নিলেও সেনাপ্রধানদের যথেষ্ট আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। এই লেফটেনেন্ট জেনারেল আমজাদ সোয়েব বলেছেন, “পাকিস্তান এখন মনে করছে, আফগানিস্তানে আইএসবিরোধী যুদ্ধের নামে যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করে এই অঞ্চলে তার স্বার্থ ও আধিপত্য আরো জোরদার করতে চায়। পাকিস্তানের জন্য এটা ভয়ানক বিপদ সংকেত। এই যুদ্ধের কালো ছায়া পাকিস্তানেও প্রসারিত হয়ে তার উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে ব্যাহত করছে।”
পাকিস্তানের এই সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, রাশিয়া এবং চীনও এই মনোভাব পোষণ করে। তার এই দাবির ভিত্তি হলো আফগান-যুদ্ধ নিয়ে এর আগে রাশিয়া দুটি বৈঠকের আয়োজন করেছিল। তাতে চীন ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা যোগ দিয়েছিলেন। বর্তমান মাসেও এই ধরনের বৈঠক হচ্ছে। তার উদ্দেশ্য হবে আফগানিস্তানে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বা যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধ করতে ব্যর্থ হলে রাশিয়া ও চীনের বড় ভূমিকা গ্রহণ সম্পর্কে নীতি নির্ধারণ।
এই খবরটি নিয়ে পশ্চিমা মিডিয়ায় তেমন কোনো উচ্চবাচ্য নেই। তেমন গুরুত্বও পায়নি খবরটি। শুধু একজন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে ষাটের বা সত্তরের দশকের বিভক্ত জোট রাজনীতি ও পুরনো কৌশলের স্নায়ুযুদ্ধে ফিরে যাবার সম্ভাবনা নেই।’ তার এই বিশ্লেষণ সত্য মনে হয় এই কারণে যে, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি বিদ্রোহীদের উপর কেমিক্যাল-আক্রমণ চালানোর অভিযোগ ওঠার পর আমেরিকা সিরিয়ায় মিসাইল-হামলা চালিয়ে আসাদকে শুধু সতর্ক করেছে। পরবর্তী আর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বরং সিরিয়া সম্পর্কে পুতিনের সঙ্গে একটা সমঝোতামূলক নীতি গ্রহণে ট্রাম্প আগ্রহী বলে মনে হয়।
আমার একটি সন্দেহ, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফর এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরো দৃঢ় করার উদ্যোগ গ্রহণ সারা উপমহাদেশে যে অনুকূল প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে, তাকে কিছুটা খাটো করার জন্যই পাকিস্তানের এই প্রচার। তাই হাসিনা-মোদী বৈঠকের কাছাকাছি সময়ে খবরটি প্রচার করা হয়েছে। যাতে মনে হতে পারে, এই অঞ্চলের রাজনীতিতে পাকিস্তান গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে না। বরং রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে জোট বেঁধে আরো বেশি শক্তিশালী ভূমিকা গ্রহণ করতে যাচ্ছে। পাকিস্তানের এই আশা কতটা ফলবতী হবে তা দেখার জন্য বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না।
পাকিস্তানের দাবি, আফগানিস্তানের সকল পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসে দেশটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সে আগ্রহী এবং তার এই উদ্যোগে রাশিয়া ও চীনের সমর্থন রয়েছে। আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে আগ্রহী হতে পারে সকলেই। কিন্তু তা নিয়ে জোট বাঁধা সম্পূর্ণ অন্য ব্যাপার। আফগান সমস্যার শুরু থেকেই পাকিস্তানের ভূমিকা কী ছিল? সে দেশের সেক্যুলার নজিবুল্লা সরকারকে অপসারণ করে মধ্যযুগীয় তালেবান সরকার প্রতিষ্ঠায় আমেরিকার যুদ্ধ চক্রান্তকে সর্বপ্রকার সহযোগিতা দান নয় কি?
আফগানিস্তানে উগ্র মৌলবাদী সশস্ত্র বিভিন্ন দল উপদল গঠন, তাদের ট্রেনিং দান, অস্ত্র সরবরাহের কাজ ইত্যাদি সব কিছু মার্কিন নির্দেশে ও সহযোগিতায় করে এই অঞ্চলে এক ভয়াবহ অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছে পাকিস্তান। ধর্মের নামে সন্ত্রাসী শক্তিকে উসকে দিয়েছে। সন্ত্রাসের এই ফ্রাঙ্কেনস্টাইন এখন পাকিস্তানকেও গ্রাস করেছে। আফগান যুদ্ধের বিস্তার ঘটেছে পাকিস্তানেও। আমেরিকার হামলায় ওসামা বিন লাদেন নিহত হয়েছেন পাকিস্তানের ভেতরেই। তাতে লাদেনপন্থিরা পাকিস্তানের উপর ক্রুদ্ধ। পাকিস্তানের প্রতি সন্তুষ্ট নয় আফগানিস্তানে বিবদমান কোনো পক্ষই। এমনকি বর্তমান আফগান সরকারও নন। তাহলে বিরোধ মীমাংসায় পাকিস্তানের ডাকে সাড়া দেবে কারা?
তাছাড়া বর্তমান অবস্থায় পাকিস্তানও কি পারবে আমেরিকার বিরুদ্ধে কোনো শক্ত অবস্থানে যেতে? সেই পঞ্চাশের দশক থেকেই আমেরিকার সঙ্গে বিভিন্ন সামরিক চুক্তিতে আবদ্ধ পাকিস্তান মূলত একটি স্যাটেলাইট স্টেটে পরিণত হয়েছে। আমেরিকার অর্থ ও অস্ত্র সাহায্যের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। এমনকি তাদের পরমাণু অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণও কার্যত আমেরিকার হাতে। এই অবস্থায় চীনের সঙ্গে গলাগলি করে বা মস্কোর দিকে মৈত্রীর হাত বাড়িয়ে পাকিস্তান আমেরিকাকে কতটা ভয় দেখাতে পারবে?
রাশিয়া ও চীন তাদের আঞ্চলিক স্বার্থেই চাইবে আফগান যুদ্ধের অবসান হোক। পাকিস্তানের উপর আমেরিকার আধিপত্য হ্রাস পাক এটাও তারা চায়। এই উদেশ্যে পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে মিলে রাশিয়া এক বা একাধিক বৈঠক করতে পারে। কিন্তু কোনো জোট গঠন করে গত শতকের নরম গরম সংঘাতে জড়িত হতে যাবে এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। সিরিয়ার যুদ্ধে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছে। কিন্তু আমেরিকার বিরোধী ভূমিকা গ্রহণ করে নয়। অন্যদিকে আমেরিকাও এই ভূমিকা মেনে নিয়েছে। আফগান যুদ্ধের ব্যাপারেও রাশিয়া ও চীন ইসলামাবাদকে কাছে টেনে আমেরিকার উপর চাপ সৃষ্টির কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাবে। তা আমেরিকা বিরোধী জোট গঠন পর্যন্ত গড়াবে তা মনে হয় না। আমেরিকার সঙ্গে চীনের দৃঢ় অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। চীন তা এখনো নষ্ট করতে চায় না। অন্যদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে পুতিনের যে অলিখিত সমঝোতা, তা সহজেই দু’পক্ষ ভাঙতে চাইবে না। যদি সিরিয়া পরিস্থিতির কোনো দারুণ অবনতি না ঘটে।
হাসিনা ও মোদীর দিল্লি বৈঠক এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সমঝোতাও আঞ্চলিক বা অন্য ধরনের কোনো জোট গঠনের ইঙ্গিত দেয় না। শেখ হাসিনা বরং জোট নিরপেক্ষ জোটের (NAM) শক্তি বৃদ্ধিতে আগ্রহী। দিল্লি বৈঠক আশানুরূপভাবে সফল হলে উপমহাদেশে যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা দেখা দেবে তা পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বর্তমান অস্থিতিশীলতা দূর করার কাজেও সহায়ক হতে পারে, যদি পাকিস্তান আগ্রহী হয়।
পাকিস্তান এযাবত্কাল বাংলাদেশেও সন্ত্রাস রফতানিতে ব্যস্ত ছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী চক্র এবং উগ্র মৌলবাদীদের কখনো প্রকাশ্য, কখনো গোপন সাহায্য জুগিয়ে বাংলাদেশকেও আরেক আফগানিস্তানে পরিণত করতে চেয়েছিল। কথায় বলে অন্যের জন্য কূপ খনন করলে খননকারীকেই সেই কূপে পড়তে হয়। পাকিস্তানের বেলাতেও এখন তাই হয়েছে। পাকিস্তান এখন সন্ত্রাসকবলিত একটি কিলিংফিল্ড। আফগানিস্তানে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে পাকিস্তানকে আগে নিজের ঘরে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হবে।হাসিনা-মোদী দিল্লি বৈঠকের সাফল্যের দিকে এখন সকলের চক্ষু নিবদ্ধ। এই বৈঠক সফল হলে যে আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চয়তা পাবে, পাকিস্তান না চাইলেও তার অংশীদার হতে পারবে।


 




মতামত



























সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতিঃ এনামুল হক শাহিন
প্রধান সম্পাদকঃ সিমা ঘোষ
সম্পাদকঃ নরেশ চন্দ্র ঘোষ

ঠিকানাঃ
২৩/৩ (৪ তালা), তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০২৯৫৬৭২৪৫, ০১৯৭৭৭৬৮৮১১
বার্তা কক্ষঃ ফাক্সঃ ০২৯৫৬৭২৪৫, ০১৬৭৬২০১০৩০
অফিসঃ ০১৭৯৮৭৫৩৭৪৪,
Email: editoropennews@gmail.com



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ নুরে খোদা মঞ্জু
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ গাউসুল আজম বিপু
বার্তা সম্পাদকঃ জসীম মেহেদী
আইটি সম্পাদকঃ সাইয়িদুজ্জামান