ওপেন নিউজ
  • | |
  • cnbangladesh.com
    opennews.com.bd
    opennews.com.bd
    opennews.com.bd
    opennews.com.bd
opennews.com.bd

মতামত

পাকিস্তানি গণতন্ত্রের জন্য অগ্নিপরীক্ষা


Date : 07-28-17
Time : 1501283012

opennews.com.bd

ওপেননিউজ # পাকিস্তানের তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে দুর্নীতির অভিযোগে গতকাল ২৮ জুলাই পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট অযোগ্য ঘোষণা করে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। তাঁর এ পরিণতি যেন পাকিস্তানের গণতন্ত্রের প্রতীক। পাকিস্তান মুসলিম লিগের (পিএমএল-এন) প্রধান নওয়াজ শরিফ ১৯৯০-এর দশকে দুবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। কিন্তু দুবারই সাংবিধানিক মেয়াদপূর্তির আগেই তাঁর সরকারকে উৎখাত করা হয়। তিনবার প্রধান নির্বাহী হিসেবে নির্বাচিত হয়েও প্রতিবারই পদচ্যুত হয়ে দৃশ্যত তিনি একধরনের রেকর্ড করলেন। এটা বেনজির ভুট্টোর নেতৃত্বাধীন সরকারের ভাগ্যেরই অনুরূপ। তিনিও একই রকমের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
আর পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রতিষ্ঠাতা জুলফিকার আলী ভুট্টো ১৯৭৭ সালের জুলাইয়ে কেবল জেনারেল জিয়াউল হকের নেতৃত্বাধীন সামরিক অভ্যুত্থানে উৎখাতই হননি বরং হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন এবং ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলেছিলেন। এই বিচারকে পরে বিচার বিভাগীয় হত্যা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। প্রকৃত ঘটনা হলো পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে কেন্দ্রীয় গণতান্ত্রিক পার্লামেন্টারি রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বিত করা হয়নি; যে ব্যবস্থা সমৃদ্ধ হয়েছিল ১৯৭৩-এর সংবিধানে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাই ‘নতুন পাকিস্তানের’ রাজনীতি ‘প্রচলিত গণতন্ত্র’ ও ‘নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্রের’ দ্বন্দ্বে বাঁধা পড়ে আছে।
১৯৭৩ সালের পর পাকিস্তানি জেনারেলরা ২০ বছর প্রত্যক্ষভাবে দেশ শাসন করেছেন এবং জুলফিকার আলী ভুট্টোর পাঁচ বছরের কিছু বেশি সময় (জানুয়ারি ১৯৭২ থেকে জুলাই ১৯৭৭) ছাড়া অন্য সময় পেছন থেকে ক্রীড়নকের ভূমিকা পালন করে গেছেন।
২০১০ সালে পার্লামেন্টে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয় সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী। এতে প্রাদেশিক সরকারগুলো সামরিক শাসনামলের বিকৃতি ও ক্ষতির মুখে পড়া সংবিধানকে পরিশুদ্ধ করার ক্ষমতা পায়। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬ যেখানে সংবিধান বাতিলের ক্ষেত্রে কঠোর রাষ্ট্রদ্রোহের শাস্তি এমনকি মৃত্যুদণ্ডের বিধান ছিল, সেই অনুচ্ছেদ অষ্টাদশ সংশোধনীতে আরও শক্তিশালী করা হয়। এখন সংবিধানের স্থগিতাদেশও সংশোধিত অনুচ্ছেদ ৬ অনুযায়ী কঠোর রাষ্ট্রদ্রোহমূলক অপরাধ বলে বিবেচিত। তাই সংবিধান স্থগিত করে সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ (যা জেনারেল জিয়া ও আবারও জেনারেল মোশাররফ করেছিলেন) তা আর সম্ভব নয়।
অষ্টাদশ সংশোধনী একটা কাজ করতে পারেনি, তা হলো, জেনারেল জিয়াউল হকের সামরিক শাসনামলে সংবিধানের ৬২ ও ৬৩ অনুচ্ছেদে যেসব সংশোধনী ঢোকানো হয়েছে, তা অপসারণ করা (পার্লামেন্ট সদস্যদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা নির্ধারণ-সংক্রান্ত ধারা)। তাই সংবিধানের নতুন অবয়বের অধীন সরকার পরিবর্তনের ‘সৃজনশীল চিন্তাভাবনা’য় বিচারিক পন্থাই বেছে নিতে হবে। এ পরিস্থিতিতে ২০১২ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা ইউসুফ রাজা গিলানি আদালত অবমাননার এক মামলায় অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার পর থেকে পাকিস্তানের রাজনীতিতে বিচার বিভাগীয় নির্ভরশীলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। গতকাল নওয়াজ শরিফকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে সংবিধানের ৬২ অনুচ্ছেদের অধীনেই; যেটা মনে করা হচ্ছিল তাঁর সেই প্রধান অপরাধ পানামার অফশোর কোম্পানিগুলোর জন্য নয়।
নওয়াজ শরিফ ২০১৩ সালে সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী হন। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক দল ২০০৮ সাল থেকেই পাঞ্জাবে ক্ষমতায় আছে। ওটা সবচেয়ে বড় ও প্রভাবশালী প্রদেশ। ২০১৩ সালে ইসলামাবাদের শাসনক্ষমতায় পৌঁছাতেও নওয়াজ অধিকাংশ ভোট পাঞ্জাব থেকেই পেয়েছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর পদে এই মেয়াদের শুরুর দিকেই তাঁর বিরোধ বাধে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে। ১৯৯৯ সালে প্রথম দফায় এবং ২০০৭ সালে (দ্বিতীয় দফা বিলোপের দায়ে এই বিচার হয়েছিল) সংবিধান স্থগিত করার দায়ে সাবেক সামরিক স্বৈরশাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফকে বিচারের মুখোমুখি করা নিয়ে বিরোধটা শুরু হয়। পরিণামে ২০১৪ সালে ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ইমরান খান এবং তারিকুল কাদরি দীর্ঘ অবস্থান ধর্মঘট করেন। পার্লামেন্ট এবং অধিকাংশ রাজনৈতিক দল সেই সময় একটা অভ্যুত্থানের চক্রান্তের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হলে তা ব্যর্থ হয়ে যায়।
তবে নওয়াজের জন্য আরও গুরুতর সংকট ছিল ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক নিয়ে শাসকদলের অভ্যন্তরীণ দলাদলি। নওয়াজের অভিমত ছিল, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের মধ্য দিয়েই পাকিস্তান উন্নতি করতে পারে। কিন্তু সেনা কর্মকর্তারা এই নীতির তীব্র বিরোধিতা করলেন। নওয়াজ শরিফ ভারতের সঙ্গে একটা সংলাপ শুরুর সুযোগ নষ্ট করেননি। এটাই ছিল নওয়াজ শরিফ এবং পাকিস্তানি সেনাসদরের বিরোধের প্রধান কারণ। দুই মাস আগে সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত যৌথ তদন্ত কমিটিতে (জেআইটি) সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং এমআইয়ের সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত হন এবং নওয়াজ শরিফকে অযোগ্য ঘোষণা করার লক্ষ্যে সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
সর্বশেষ শাসনামলে নওয়াজ শরিফের দুর্বল জায়গাটা ছিল তিনি পার্লামেন্ট এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে পুরোপুরি উপেক্ষা করেছেন। পার্লামেন্টের প্রান্তিকীকরণের পরিণামে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। নওয়াজের এই কৌশলগত দুর্বলতার কারণে অগণতান্ত্রিক শক্তিগুলো তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে একটা বিচারিক অভ্যুত্থান শুরু করার সুযোগ পেয়ে যায়। পাঞ্জাবি বুর্জোয়া জনগোষ্ঠীর নির্ভরযোগ্য নেতা সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে নিয়ে পদত্যাগ করেছেন এবং বেসামরিক আধিপত্যের পক্ষে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ত্যাগ করতে রাজি হননি। তিনি জেনারেল মোশাররফের আমলে দীর্ঘ কারাবাস এবং নির্বাসন থেকে ফিরে আসার সামর্থ্য দেখিয়েছেন।
এখন কি নওয়াজ পাঞ্জাবে নিজের ভোটব্যাংক ধরে রাখতে পারবেন এবং প্রত্যাবর্তন করতে পারবেন? সাময়িক ব্যবস্থা ছাপিয়ে বিধিসম্মত ব্যবস্থা কি প্রতিষ্ঠিত হবে? এসব প্রশ্নের উত্তরই নওয়াজের ভাগ্য নির্ধারণের পাশাপাশি পাকিস্তানে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ দেখাবে।
আফ্রাসিয়াব খট্টক: পাকিস্তানের বামপন্থী রাজনীতিবিদ ও সাবেক সিনেটর। সংবিধান বিশেষজ্ঞ এই আইনজীবী পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট। এ মুহূর্তে আঞ্চলিক বিশ্লেষক হিসেবে গণমাধ্যমে লেখালেখি করেন।




মতামত



























সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতিঃ এনামুল হক শাহিন
প্রধান সম্পাদকঃ সিমা ঘোষ
সম্পাদকঃ নরেশ চন্দ্র ঘোষ

ঠিকানাঃ
২৩/৩ (৪ তালা), তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০২৯৫৬৭২৪৫, ০১৯৭৭৭৬৮৮১১
বার্তা কক্ষঃ ফাক্সঃ ০২৯৫৬৭২৪৫, ০১৬৭৬২০১০৩০
অফিসঃ ০১৭৯৮৭৫৩৭৪৪,
Email: editoropennews@gmail.com



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ নুরে খোদা মঞ্জু
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ গাউসুল আজম বিপু
বার্তা সম্পাদকঃ জসীম মেহেদী
আইটি সম্পাদকঃ সাইয়িদুজ্জামান