ওপেন নিউজ
  • | |
  • cnbangladesh.com
    opennews.com.bd
    opennews.com.bd
    opennews.com.bd
    opennews.com.bd
opennews.com.bd

মতামত

গাইবান্ধা ৪ অসনে জন্য ৬ প্রাথী


Date : 10-08-17
Time : 1507475016

opennews.com.bd

ওপেননিউজ # গাইবান্ধা জেলার প্রবেশদ্বার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা এ এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ঢাকা-রংপুর মহাসড়কটি গেছে এ উপজেলার বুক চিরে। বৃহত্তম এই উপজেলা নিয়েই গঠিত গাইবান্ধা-৪ আসন। আগামী সংসদ নির্বাচন ঘিরে এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও বর্তমানে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে গেছে। 
আরো একজনের নাম সোনাযায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের  কেন্দ্রীয় নেতা আলাহাজ্ব মো:নাজমুল ইসলাম লিটন প্রাথী হিসাবে মাঠে ময়দানে কাজ করেছে তূনমুলনেতাদে সাথে আছে!
জাতীয় সংসদের ৩২ নম্বর নির্বাচনী এলাকাটি বর্তমানে আওয়ামী লীগের দখলে। আগেরবারও আসনটি এ দলের কবজায় ছিল। এর আগে আসনটি ছিল বিএনপির দখলে।
উল্লেখ্য, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর মধ্যে। দলীয় প্রার্থী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন চৌধুরীকে হারিয়ে দেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ। যদিও মনোয়ার হোসেন আগেরবার সংসদ সদস্য ছিলেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলের বর্তমান ও সাবেক দুই সংসদই মনোনয়ন পাওয়ার শক্ত দাবিদার।
তবে কিছুটা হলেও এগিয়ে আছেন সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ। যদিও আরো কয়েকজন নেতা মনোনয়ন পাওয়ার আশায় মাঠে কাজ করছেন।
অন্যদিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন জোট চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও বিএনপি ও জামায়াতের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা মাঠে নেমেছেন। তাঁরা তৃণমূলে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কাজ করছেন। এর মধ্যে বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াতের একজনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেননি। তবে নিজ উদ্যোগে দলটির কেউ কেউ জনসংযোগ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), ক্ষমতাসীন দলের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টিসহ অন্য দলগুলোও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে শুরু করেছে।
আওয়ামী লীগ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা তাঁদের অবস্থান সংহত করতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি কেন্দ্রের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। মনোনয়ন দৌড়ে সবার আগে ছুটছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও সাবেক সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন চৌধুরী। আরো যাঁদের নাম শোনা যাচ্ছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র আতাউর রহমান সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ প্রধান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় পাট ও বস্ত্রবিষয়ক সম্পাদক নাজমুল ইসলাম লিটন। ভেতরে ভেতরে ঠাণ্ডা লড়াই থাকলেও মনোনয়নপ্রার্থী নেতারা সবাই বলছেন, তাঁরা দলীয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন। তিনি যাঁকে মনোনয়ন দেবেন সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে তাঁর পক্ষে কাজ করবেন।
সাবেক সংসদ সদস্য মনোয়ার চৌধুরী বলেন, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী থাকার সময় থেকে ও সংসদ সদস্য হওয়ার পর ব্যাপক উন্নয়নকাজ করেছি। জনগণ আমাকে ভালোবাসে। বঙ্গবন্ধু কন্যা মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাকে বিবেচনা করলে নিশ্চিত বিজয়ী হবো। 
তবে উপজেলা আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকায় থাকা সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদকেই যোগ্য প্রার্থী বলে মনে করছে নেতাকর্মীরা।
জানা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ১৯৮০ সালে কালাম জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সমর্থক ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন। ১৯৮৩ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি এলাকায় রাজনীতিতে সক্রিয় হন। কালাম জেলা জাসদের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত পর পর দুইবার তিনি গুমানিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০০৪ সালে তিনি গোবিন্দগঞ্জ পৌর সভার মেয়র নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং ২০০৮ সালে নির্বাচিত হন উপজেলা চেয়ারম্যান। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর ২০১৬ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হন কালাম। বর্তমানে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থানীয় কমিটির সদস্য। রাজনীতির বাইরে ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সহায়তাদানের কারণে তাঁর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।
সংসদ সদস্য কালামের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন ফকু বলেন, গোবিন্দগঞ্জের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিকে অগ্রগামী রাখতে বর্তমান সংসদ সদস্যের কোনো বিকল্প নেই। অন্য এলাকায় জামায়াত-শিবির সন্ত্রাস করলেও কালামের কারণে গোবিন্দগঞ্জে মাথা চাড়া দিতে পারেনি। সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি গোবিন্দগঞ্জকে অশান্ত করার অপচেষ্টা রুখে দিয়েছেন। এ ছাড়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও তাঁর ভূমিকা কম নয়। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী গোবিন্দগঞ্জে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে আবুল কালাম আজাদকে নিয়েই কাজ করেছেন।
মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব বিষয় অবশ্যই বিবেচনা করবেন বলে আমার বিশ্বাস। ’
সংসদ সদস্য কালাম বলেন, ‘উন্নয়নের মূল ধারায় এসে গোবিন্দগঞ্জ এখন জেলার একটি মডেল উপজেলা। আগামী দিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মনোনয়নের জন্য বিবেচনা করলে আমি বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। ’
এ আসনে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী মনোনয়নপ্রত্যাশী পৌর মেয়র আতাউর রহমান সরকারও জাসদ সমর্থক ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনীতিতে আসেন। একসময় গোবিন্দগঞ্জ কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। পরে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দল সংগঠিত করতে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন।
আতাউর রহমান বলেন, পরিকল্পিত ও আধুনিক গোবিন্দগঞ্জ গড়ে তুলতে হলে সৎ ও নিষ্ঠাবান নেতৃত্ব প্রয়োজন। তিনি বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ধারাকে বেগবান করতে মনোনয়ন চাইবেন।
বিএনপি : একসময় এ আসনটি বিএনপির দখলে থাকায় দলটির জনসমর্থন রয়েছে। প্রয়াত সংসদ সদস্য আব্দুল মোত্তালেব আকন্দ বিএনপিকে গোবিন্দগঞ্জ শক্ত গণভিত্তি দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে বিএনপির স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে ভালো ফলাফল করে। আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যাও কম নয়। তাঁদের মধ্যে আছেন আব্দুল মোত্তালেব আকন্দের ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান মণ্ডল, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক কবির আহমেদ, পৌর বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আলতাব হোসেন পাতার নাম শোনা যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমেদ বলেন, ‘একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী বড় দলে থাকতেই পারে। তবে নির্বাচন এখনো বহু দূরে। যোগ্য প্রার্থীর হাতেই দলীয় চেয়ারপারসন ধানের শীষ তুলে দেবেন বলে আমার বিশ্বাস। ’
জামায়াত : জোটগতভাবে নির্বাচন হলে শেষ পর্যন্ত কোন দলের প্রার্থী মনোনয়ন পাবেন নিশ্চিত করতে পারেননি জামায়াতের স্থানীয় নেতারা। তবে জেলার যে তিনটি আসনের জন্য জোটের শরিকদের কাছে জামায়াত দাবি জানাবে সেগুলোর মধ্যে একটি গাইবান্ধা-৪। এখন পর্যন্ত দলের জেলা আমির ডা. আব্দুর রহিম সরকার এ আসনে দলের একক প্রার্থী বলে জানা গেছে।
জাপা ও জেপি : দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পেয়েছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য লুত্ফর রহমান চৌধুরী। কিন্তু দলের চেয়ারম্যান এরশাদ নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। অবশ্য জাতীয় পার্টি নির্বাচনে ছিল এবং বর্তমানে সংসদে বিরোধী দল। নির্বাচনের পর লুত্ফর রহমান চৌধুরী এরশাদের জাতীয় পার্টি থেকে পদত্যাগ করে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জাতীয় পার্টিতে (জেপি) যোগ দেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় সদস্য গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কাজী মো. মশিউর রহমান আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবেন। অন্যদিকে জেপির প্রার্থী হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য লুত্ফর রহমান চৌধুরীর নাম শোনা যাচ্ছে।
সিপিবি : বড় দলগুলোর পাশাপাশি বামপন্থী কয়েকটি দলও নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সিপিবি থেকে বিপ্লব কুমার চাকি প্রার্থী হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।


 




মতামত



























সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতিঃ এনামুল হক শাহিন
প্রধান সম্পাদকঃ সিমা ঘোষ
সম্পাদকঃ নরেশ চন্দ্র ঘোষ

ঠিকানাঃ
২৩/৩ (৪ তালা), তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০২৯৫৬৭২৪৫, ০১৯৭৭৭৬৮৮১১
বার্তা কক্ষঃ ফাক্সঃ ০২৯৫৬৭২৪৫, ০১৬৭৬২০১০৩০
অফিসঃ ০১৭৯৮৭৫৩৭৪৪,
Email: editoropennews@gmail.com



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ নুরে খোদা মঞ্জু
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ গাউসুল আজম বিপু
বার্তা সম্পাদকঃ জসীম মেহেদী
আইটি সম্পাদকঃ সাইয়িদুজ্জামান