ওপেন নিউজ
  • | |
  • cnbangladesh.com
    opennews.com.bd
    opennews.com.bd
    opennews.com.bd
    opennews.com.bd
opennews.com.bd

মিডিয়া

সিডরের ১০ বছর মানুষ এগিয়ে চলে


Date : 11-18-17
Time : 1511009773

opennews.com.bd

ওপেননিউজ # ১০ বছর পার হলেও সিডরের সব ক্ষত দূর হয়নি। মেরামত হয়নি অনেক সাঁকো। ভেঙে যাওয়া বাঁধের সবটা কি আগের মতো মজবুত হয়েছে? তৈরিই হয়নি অনেক জায়গায়, তারপর ছিল ‘আইলার’ ছোবল। সিডরে হারিয়ে যাওয়া সব মানুষের লাশ মেলেনি, এখনো নিখোঁজ অনেকে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের কেউ কেউ ফিরেছেন। বছর দু-এক আগে শরণখোলায় এক ‘অপ্রকৃতিস্থ’ তরুণের সন্ধান পাওয়া যায়। সংবাদকর্মীদের চেষ্টায় বৃহত্তর বরিশাল জেলা থেকে তাঁর পরিবারের খোঁজ মেলে। ছায়াছবির মতো মিলন হয় হারিয়ে যাওয়া সন্তানের সঙ্গে খুঁজে ফেরা পরিবারের। এখনো অনেকে আশায় আছেন যদি স্বামী ফেরে, মা ফেরে, খোকা ফেরে। হাল ছাড়ে না বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালীর মানুষ।
ত্রাণ আর কথিত পুনর্বাসনের দিকে তাকিয়ে না থেকে তারা জীবিকার বিকল্প সন্ধানে নেমেছে। অনেকেই খুঁজে পেয়েছে পথ। বাঁধ মেরামতের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় অনেক জমি এখন জোয়ার-ভাটায় ডোবে, ভাসে। অনেকেই তাদের আগের জায়গায় ফিরে যেতে পারেনি। যারা বাঁধের ওপর কিংবা বাঁধের খুব কাছে ছিল, কিন্তু সেই বাঁধ মেরামত হয়নি, তারা জীবনের হালটা আর ঘোরাতে পারেনি। অনেকেই এলাকা ছেড়েছে, শহরমুখী হয়েছে।
এর উল্টো ছবিও বেশ আছে সিডরে বিধ্বস্ত এলাকায়। সিডরের আগে যেখানে মানুষ একটা ফসলের ওপর নির্ভর করত, শুধু আমনের আবাদেই ঘুরপাক খেত, সেখানে মানুষ এখন ইরি-বোরোতে যাবে। কম লবণাক্ত পানি ধরে রেখে শুকনো মৌসুমে সেচ দিয়ে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মানুষের এ রকম ফেরত আসা চমকে দেয় কৃষি কর্মকর্তাদের। উন্নয়নের বাণিজ্যে মশগুল অর্থ লগ্নির এনজিওগুলো। ছোট ছোট পুকুর কেটে বৃষ্টির পানি ধরে রেখে শীতের ফসল ঘরে তোলার কৌশল কে তাদের শেখাল? সেই পুকুরে আবার সাদা মাছের আবাদও হবে। পুকুরের পাড় ঘিরে চলছে সবজির আবাদ। যে বাগেরহাট চালানের (আমদানি) সবজির বড় ভোক্তা ছিল, সেই বাগেরহাট থেকে এখন ট্রাকে ট্রাকে সবজি যায় খুলনা-ঢাকায়। মোংলা-বাগেরহাট সড়কের কাটাখালীতে কাকডাকা ভোরে বসে সবজির পাইকারি বাজার। ঢাকা ও বাগেরহাট সড়কের সিঅ্যান্ডবি বাজার এখন সবজির মোকাম।
সিডরের পর সব হারানো মানুষকে সুন্দরবনে ঢোকা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল বন বাঁচানোর অজুহাতে। তাতে বন বেঁচেছে নাকি যত্নের অভাবে, মানুষের স্পর্শের অভাবে সুন্দরবনের প্রধান ঐশ্বর্য গোলপাতা গোল্লায় গেছে, সেই হিসাব কেউ রাখেনি। তবে সাধারণ মানুষ বুঝে গেছে, ক্রমেই তাদের নাগালের মধ্যে থাকা প্রকৃতির সম্পদ ধোঁকাবাজদের কবজায় চলে যাবে। তাদের অন্য কিছু করতে হবে। মানুষ কাজের খোঁজে, জীবিকার সন্ধানে নানা জায়গায় ছুটেছে। জীবিকার জন্য এই ছোটারও একটা ইতিবাচক দিক আছে।
গ্রামের বাইরে এসে গ্রামটাকে দেখা অন্য জনবসতির সঙ্গে তাকে মিলিয়ে দেখতে গিয়ে সে খুঁজে পাচ্ছে তার উচিত অগ্রাধিকারের জায়গা—ঠিক করতে পারছে কোথায় সে বিনিয়োগ করবে। সিডরের আগে পাথরঘাটার গ্রামগুলোর নারীরা ঢাকা ও চট্টগ্রামের পোশাক কারখানাগুলোতে এত ব্যাপকভাবে কাজ করতেন না। খুব কষ্টের জীবন তাঁদের। তবে একটা জিনিস তাঁরা বুঝে নিয়েছেন, লেখাপড়ায় বিনিয়োগ ছাড়া উপায় কম। পাথরঘাটার গ্রামে গ্রামে পোশাককর্মী মায়েদের সন্তানেরা স্কুলে-মাদ্রাসায় পড়ছে। শিক্ষার মান সম্পর্কে প্রশ্ন থাকতে পারে, কিন্তু তারা স্কুলকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
দাকোপের শিক্ষা পরিস্থিতি আরও চমকে দেয়। প্রাথমিক, জুনিয়র আর এসএসসি—তিন ধাপেই সিডর আর আইলায় বিধ্বস্ত দাকোপের ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার ফলাফল শুধু খুলনা জেলা নয়, খুলনা বিভাগের মধ্যে ভালো। যাদের ক্ষমতায় কুলাচ্ছে, তারা ছোট করে হলেও আগের চেয়ে মজবুত ঘর বানাচ্ছে। ভিতটা অন্তত ইট দিয়ে গেঁথে নিচ্ছে।
সিডরে বিধ্বস্ত এলাকায় সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার নানা প্রেসক্রিপশনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে, এখনো করছে। এর অনেকগুলো চাকা পুনরাবিষ্কারের সঙ্গে তুলনীয় হলেও বিনিয়োগ তো হয়েছে। কেউ নানা ধাঁচের ঘর বানিয়ে জ্ঞানের সীমানা মাপছে, কেউ শস্য বহুমুখীকরণ, লবণ-সহিষ্ণু শস্যের উৎপাদন, বৃষ্টির পানি ধরে রাখার কৌশল, সোলার প্যানেলের ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয় মানুষও নিত্যনতুন ‘পাগলামি’র স্বাদ পাচ্ছে। কোনো কোনো পাগলামিকে তারা বরণও করছে। লবণপানির বন বা ম্যানগ্রোভ ফরেস্টের গাছগাছালির নার্সারি সে রকম এক পাগলামি। সুন্দরবনের গাছ কি নার্সারিতে হয়? এখন হবে। প্রথমে মানুষ বিশ্বাস করেনি, এখন করছে। দ্রুত বন বৃদ্ধির এই অভিনব কৌশল এখন সিডরবিধ্বস্ত মানুষের কবজায়। তারা জেনে গেছে কীভাবে কঞ্চি থেকে বাঁশের বাগান তৈরি করা যায়। সিডরকে ‘জয় করে সামনে’ এগিয়ে যাওয়ার শক্তির নাম দক্ষিণের মানুষ। পচাব্দী গাজীর বংশধর।
গওহার নঈম ওয়ারা: ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মী। শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। 


 




মিডিয়া



























সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতিঃ এনামুল হক শাহিন
প্রধান সম্পাদকঃ সিমা ঘোষ
সম্পাদকঃ নরেশ চন্দ্র ঘোষ

ঠিকানাঃ
২৩/৩ (৪ তালা), তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০২৯৫৬৭২৪৫, ০১৯৭৭৭৬৮৮১১
বার্তা কক্ষঃ ফাক্সঃ ০২৯৫৬৭২৪৫, ০১৬৭৬২০১০৩০
অফিসঃ ০১৭৯৮৭৫৩৭৪৪,
Email: editoropennews@gmail.com



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ নুরে খোদা মঞ্জু
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ গাউসুল আজম বিপু
বার্তা সম্পাদকঃ জসীম মেহেদী
আইটি সম্পাদকঃ সাইয়িদুজ্জামান