ওপেন নিউজ
  • | |
  • cnbangladesh.com
    opennews.com.bd
    opennews.com.bd
    opennews.com.bd
    opennews.com.bd
opennews.com.bd

প্রশাসন

নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট


Date : 12-12-17
Time : 1513081251

opennews.com.bd

ওপেননিউজ # সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রেখে অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। গতকাল সোমবার ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা-২০১৭’ নামে বহুল আলোচিত এই গেজেট প্রকাশ করা হয়। এতে ব্যবস্থা নেওয়ার ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ’ হিসেবে রাষ্ট্রপতি বা আইন মন্ত্রণালয়কে বোঝানো হয়েছে।
সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে অধস্তন আদালতগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার বিষয়ে বলা হয়েছে। ওই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচার বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার বিধান রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত থাকবে এবং সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি তা প্রয়োগ করবেন। মূলত সংবিধানের এই বিষয়টিই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে স্থান পেয়েছে বিধিমালায়। গতকাল থেকেই এটা কার্যকর হয়েছে।
যদিও বাহাত্তরের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে বলা ছিল, অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি, কর্মস্থল নির্ধারণ, ছুটি ও শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিষয়গুলো সুপ্রিম কোর্টের কাছে ন্যস্ত থাকবে। রাষ্ট্রপতি বা আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ ছিল না। পদত্যাগ করা প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বাহাত্তরের ওই বিধান ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন। এতে তাঁর সঙ্গে সরকারের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। সাবেক প্রধান বিচারপতি ওই বিধিমালার খসড়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে সরকারকে ফেরতও পাঠান। পরে বর্তমান দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞার সঙ্গে আইনমন্ত্রীর আলোচনার পর বিধিমালাটি চূড়ান্ত করা হয়।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে ইঙ্গিত করে বলেন, এক ব্যক্তির কারণে গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হয়েছে।
বিধিমালায় বলা হয়েছে, জুডিশিয়াল সার্ভিসের কোনো সদস্য প্রেষণে কর্মরত থাকাকালে অনুসন্ধানের প্রয়োজন হলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি বা দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় বা বিভাগ প্রাথমিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে বিষয়টি নিরূপণের চেষ্টা করবে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শে তদন্তের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
সার্ভিসের কোনো সদস্যকে অভিযোগ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে এবং ব্যাখ্যার পর সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ ছাড়া অভিযোগ আনা বা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা নিরূপণের পদক্ষেপ বা বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম শুরু করা যাবে না। অভিযুক্ত কর্মকর্তার লিখিত বক্তব্য (যদি থাকে) বিবেচনার পর উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে, বিষয়টি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধানের প্রয়োজন, তাহলে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করবে।
বিধিমালা বলছে, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ছাড়া অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা সংস্থায় প্রেষণে থাকার সময় কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে ওই কর্মকর্তাকে আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত শেষ করতে হবে।
বিধিমালা আরও বলছে, সার্ভিসের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার সময় বা পরবর্তী যেকোনো পর্যায়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করতে পারবে। সাময়িক বরখাস্তের এক বছরের মধ্যে তদন্ত শেষ করে বিভাগীয় মামলায় চূড়ান্ত আদেশ দিতে হবে।
বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শে নির্ধারিত পদ্ধতি মেনে বিভিন্ন ধরনের দণ্ড দেওয়া যাবে।
১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণ-সংক্রান্ত মাসদার হোসেন মামলার রায়ে আপিল বিভাগ ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দিয়েছিলেন। রায়ের আলোকে অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। পদত্যাগ করা এই প্রধান বিচারপতির মেয়াদে নতুন করে আলোচনায় আসে শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালার বিষয়টি। ওই বছরের ১১ মে বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ অধস্তন আদালতের বিচারকদের জন্য আচরণবিধি তৈরি করতে নির্দেশ দেন। এরপর বিধিমালার খসড়া তৈরি করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায় আইন মন্ত্রণালয়।
পদত্যাগী প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সময় অধস্তন আদালতে বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত ওই বিধিমালা জারি করা নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিচার বিভাগের টানাপোড়েন হয়। অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কার ওপর ন্যস্ত থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
গত বছরের ২৮ আগস্ট আপিল বিভাগ সুপ্রিম কোর্টের গঠিত কমিটির সুপারিশ অনুসারে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে জারি প্রকাশ করতে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর কয়েক দফা সময় নেয় রাষ্ট্রপক্ষ। এর ধারাবাহিকতায় বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশের অগ্রগতিবিষয়ক শুনানিতে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে ওই বছরের ১২ ডিসেম্বর আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন।
সেদিন শুনানিকালে সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, ‘মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়, এর মধ্যে বিচারকদের সার্ভিস রুলসের বিষয়টিও রয়েছে। ১৪ বছর ধরে বলা হলেও তা করা হয়নি। এটি আমরা না, আপনারা (মন্ত্রণালয়) খসড়া করে পাঠিয়েছিলেন, দেখা গেল মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী, আমরা সংশোধন করে দিয়েছি মাত্র।’
এরপর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গত ২৭ জুলাই তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সঙ্গে দেখা করে খসড়া বিধিমালা তুলে দেন। এরপর থেকে বিষয়টি নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিরোধ প্রকাশ্য হয়ে পড়ে। ইতিমধ্যে ৮ ডিসেম্বর এক অনুষ্ঠানে বিধিমালার বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, শৃঙ্খলাবিধি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে গেছে।
অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত ওই বিধিমালা চূড়ান্ত করতে ১০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ সময়ের আবেদন জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ ১৩ ডিসেম্বর পরবর্তী দিন রেখেছেন। তার আগেই আলোচিত এই গেজেট প্রকাশিত হলো।

 




প্রশাসন



























সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতিঃ এনামুল হক শাহিন
প্রধান সম্পাদকঃ সিমা ঘোষ
সম্পাদকঃ নরেশ চন্দ্র ঘোষ

ঠিকানাঃ
২৩/৩ (৪ তালা), তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০২৯৫৬৭২৪৫, ০১৯৭৭৭৬৮৮১১
বার্তা কক্ষঃ ফাক্সঃ ০২৯৫৬৭২৪৫, ০১৬৭৬২০১০৩০
অফিসঃ ০১৭৯৮৭৫৩৭৪৪,
Email: editoropennews@gmail.com



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ নুরে খোদা মঞ্জু
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ গাউসুল আজম বিপু
বার্তা সম্পাদকঃ জসীম মেহেদী
আইটি সম্পাদকঃ সাইয়িদুজ্জামান